৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চরাঞ্চলে জমি রক্ষা করতে গিয়ে বনবাসে কৃষক পরিবার, অভিযুক্তরা এখনো দাপুটে

spot_img

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের খোলাবাড়ির চরাঞ্চলে জমি রক্ষা করতে গিয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন কৃষক মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবার। দীর্ঘ প্রায় এক বছর এলাকা ছাড়া থাকার পর গত ৫ আগস্টের পর তিনি নিজ জমিতে ফিরে আসেন। এ সময় প্রশাসনের সহায়তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

২০২৪ সালের আগস্টে জমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলী (৩০) এবং তাঁর বড় ভাই রহমত আলী (৪০)-এর পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন এবং তার পিতা ডাকাত সর্দার জামাল বাদশা’র নেতৃত্বে সশস্ত্র দলটি এ হামলা চালায়। রহমত আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং মোহাম্মদ আলীর ঘরবাড়ি ও জমিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার সময় এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ফুলছড়ি থানায় হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা হলেও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন দলীয় প্রভাব ও আর্থিক শক্তির কারণে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরহাদ হোসেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তিনি প্রশাসনকে প্রভাবিত করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের ওপর দমনমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলে আওয়ামী লীগ থেকে প্রভাব বিস্তার করা আমি ডামির ভোটে নৌকায় ভোট মারতে বাদ্য করা নেতা ফরহাদ হোসেন বিএনপিপন্থী সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস-এর ফুলছড়ি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু দল পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বরং চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ তার দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। অবশেষে প্রশাসনের সহায়তায় নিজের ভিটেমাটিতে ফিরতে পেরেছি।”

ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে কাজ চলছে।”

জেলা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মামলাগুলোর অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে চরাঞ্চলে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং মোহাম্মদ আলীর মতো ভুক্তভোগীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ