২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পাবলিকিয়ানদের চূড়ান্ত লক্ষ্য মাত্রা বিসিএস

spot_img

সাজ্জাদুর রহমান;বেরোবি প্রতিনিধি
লক্ষ তরুণের আলোকময় চোখ যেখানে এসে আটকে যায় তার নাম হল বিসিএস। আর বিসিএস এর স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াইয়ে নেমেছে লক্ষ তরুণ মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রী।এ পরিক্ষা হলো এমন একটি পরিক্ষা যেখানে উত্তীর্ণ হতে লাগে পরিকল্পিত ভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতি। যে এসব জয় করতে জানে সে হয়ে উঠে সফল বিসিএস ক্যাডার।

বিসিএস তিনটি ধাপে সর্ম্পুণ হয়।প্রথম ধাপে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারীতে পাশ করতে হয়। এতঃপর দ্বিতীয় ধাপে সর্বমোট ৯০০ নম্বরের লিখিত ও প্রফেশনাল বা টেকলিক্যাল ক্যাডারের জন্য বাড়তি ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হয় এবং তৃতীয় ধাপ ও সর্বশেষ ধাপ হলো ভাইভা। যে শিক্ষার্থী সফল ভাবে তিনটি ধাপ সর্ম্পুণ করতে পারে সে হয় সফল বিসিএস ক্যাডার।

তবে এ যাত্রায় জয়ী হতে হলে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও ধৈর্য্য থাকতে হয় । এজন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি রিডিং রুম অনবরত ব্যাস্ত থাকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনায়। যারা পরিশ্রম করতে পারে তারাই কেবল সফল হয়।স্বপ্নের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে।আর যারা বিসিএস এর তিনটি ধাপ ভলোভাবে পার করতে পারেনা তাদের আশা প্রত্যাশা অধরাই থেকে যায়। তবে এক্ষেত্রে কেউ প্রথম বারেই সফল হয় কারো আবার সফল হতে সময় লাগে কয়েক বছর।
সর্বমোট কত আবেদন পড়লো এবারের বিসিএসে এ সম্পর্কে পিএসসির একাধিক সদস্য বলেন, ৪৬তম বিসিএসে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০৮টি আবেদন জমা পড়েছে।আগের বারের চাইতে এবারে সংখ্যাটা কম।তাই এবারে একটা সুযোগ থেকে যাচ্ছে।

বিসিএস আসলেই লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন।এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের ভাষায় যেমন-

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুর জামান বাপ্পি বলেন প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখে। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্বপ্ন মানুষকে খুব নিখুঁতভাবে সাহায্য করে। মানুষের স্বপ্নের ধরন নানা আঙ্গিকের। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, আবার কেউ কেউ সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সমসাময়িক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্বীকৃতি, বেতন কাঠামো, ক্ষমতার প্রায়োগিক এসবের পুরো একটি প্যাকেজ পাওয়া যায় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার মাধ্যমে। তাই তো সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন থাকে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে। এখনকার সময়ে সফলতা সর্বোচ্চ শিখড় হলো বিসিএস ক্যাডার।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শারমীন শীলা বলেন,
বিসিএস প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় লক্ষ্য।তেমনিভাবে আমারো আছে। এটি এমন একটি অবস্থান তৈরি করে যার মাধ্যামে একজন শিক্ষার্থী চাকুরীর নিরাপত্তা পায় ও সামাজিক মর্যাদা পায় ও মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।।এটি হওয়ার মধ্যে দিয়ে আলোকিত সমাজ গড়া যায় ও দেশ ও জাতির অনেক কল্যাণ সাধনের সুযোগ থাকে।

রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন,
রাজার ছেলে রাজা হবে’ এটা খুবই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু এই ধারণা ভেঙে যায় বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে। এখানে সকল ধর্ম,বর্ণ,শ্রেণির উর্ধ্বে উঠে শুধুমাত্র মেধাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা সুযোগ পায় দেশের কাজে অংশগ্রহণের। সেজন্য প্রান্তিক ঘরে জন্মেও বিসিএস’র স্বপ্ন দেখে, অনেক পড়ালেখা আর পরিশ্রমে ধরা দেয় সোনার হরিণ। বিসিএস শুধুমাত্র একজন আমলাই তৈরি করেনা বরং শেখায় লক্ষ্য অটুট রেখে অদম্য পরিশ্রম করে সফল হতে।

বাংলাদেশে চাকরি এখন সোনার হরিণ। বেসরকারি খাতে চাকরির বাজার মন্দা হওয়ায় অধিকাংশ মেধাবী তরুণ সরকারি চাকরির জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। স্বপ্নজয়ের এ যাত্রায় পরিশ্রমীরাই সফল হয়।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ