২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দেড় মাস পর খুলবে ফতেহ আলী সেতু, তবুও ঝুঁকিতে পথচলা

spot_img

বগুড়া শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফতেহ আলী সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ না হওয়ায় পূর্ব বগুড়ার প্রায় ১০ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটি এলাকাবাসীর জন্য প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

বর্তমানে সেতু দিয়ে ছোট যানবাহন ও পথচারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করলেও রাতে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সেতুর বাকি কাজ ইতোমধ্যে পুনরায় শুরু হয়েছে এবং আগামী দেড় মাসের মধ্যে পুরো নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সেতু পারাপারের সময় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ফরহাদ (২২) নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরও মানুষের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি কমেনি।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে বগুড়া শহরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ৪৮ বছর ব্যবহারের পর পিলার ও পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের আগস্টে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় সময় ও খরচ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

নতুন করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই নকশা ও বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার এবং প্রস্থ ১২ দশমিক ৩ মিটার নির্ধারণ করা হয়, যার দুই পাশে ২ দশমিক ৫ মিটার করে ফুটপাত রাখা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি টাকা।

মেসার্স জামিল ইকবাল-এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি করা হলেও নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ হয়নি।

বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, ঠিকাদারের কিছু গাফিলতির কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে সেতুটি জনসাধারণের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ