
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে রাতের আধারে মজিদুল ইসলাম নামের এক কৃষকের ২২২ (দুইশত বাইশ) টি ছোট, বড় ও মাঝারী ধরনের সুপারী গাছ কেটে প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে দুবৃত্তরা।
গত মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) রাত অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার পশ্চিম ফুলমতি (ঝাকুয়াটারী) গ্রামস্থ মজিদুল ইসলামের সুপারী বাগানে। মজিদুল ইসলাম ঐ গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, মজিদুল ইসলাম গত প্রায় ১৫ বছর পূর্বে তার বসতবাড়ীর পাশে ১০ শতাংশ জমি নিজ নামে ক্রয় করে উক্ত জমিতে সুপারী বাগান তৈরী করে। সেখানে প্রায় ৩৫০ টির মত সুপারী চারা রোপন করে। বর্তমানে সুপারী গাছগুলো প্রায় ০৫ ফিট লম্বা হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সুপারী গাছে আসবে বলে ধারনা করা হয়। ইতি মধ্যে মজিদুল ইসলাম তার নতুন বসতবাড়ী নির্মান করলে, সেখানে প্রায় ১০০ টি সুপারী গাছ তুলে নিয়ে লাগায়। অবশিষ্ট সুপারী গাছ গুলোর মধ্যে ২২২ টি সুপারী গাছের গোড়ার একটু উপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মাটিতে ফেলে দিয়েছে দুবৃত্তরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, পারিবারিক কলোহের জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সুপারী গাছ গুলো আর কয়েছ বছরের মধ্যে ফল দিতো। স্থানীয় লোকজন এই ঘটনাকে একটি হত্যাকান্ডের সাথে তুলনা করছে এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন।
মজিদুল ইসলাম জানায়, পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তার আপন বোন ও ভগ্নীপতির সাথে বিরোধ ছিল। তারই জের ধরে মজিদুলের কেনা জমিতেএই হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তার বোন ও ভগ্নীপতি তাকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মারপিট করা সহ বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এই বিষয়ে মজিদুল বাদী হয়ে তার বোন ও ভগ্নীপতির বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটায় বলে তার দাবী মজিদুলের। ঘটনার বিষয় উল্লেখ করে মজিদুল ইসলাম তার বোন জামাই জহুরুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু (৫১), ও তার বোন নুরভানু ওরফে নুরবানু বেগমদ্বয় সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানা যায়।
তবে মজিদুলের ভগ্নীপতি জহুরুল ইসলাম ভুট্টু মুঠোফোনে ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী এ ব্যাপারে বিছুই জানে না।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ জানান, ঘটনার একদিন পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




