২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বগুড়ার বিনোদন পার্কগুলো যেনো এখন আবাসিক হোটেল

spot_img

পার্কগুলো যেন আবাসিক হোটেলে পরিণত হয়েছে। যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে সাধারণ মানুষ সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে বিভিন্ন পার্ক গুলোতে যখন বিনোদন নিতে যায়। সেই সময় গুলোতেই দেখা যায় প্রেমিক প্রেমিকা। শুধু অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দিয়েই শেষ নয় শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত তারা, কেউবা দাঁড়িয়ে কেউবা বসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন। যেমনটি রাস্তাঘাটে কুকুর কিংবা অন্যান্য প্রাণীরা শারীরিক সম্পর্ক করে থাকেন। এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এছাড়াও চোখে পড়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে পার্ক গুলোতে নেই প্রশাসনের তদারকি এমনটাই অভিযোগ করছেন বিনোদনপ্রেমীরা। বগুড়ার সাতমাথার নিকটবর্তী পৌর পার্কে ঘুরতে আসা একজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে এ পার্কে, কিন্তু ছেলে-মেয়েদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখে লজ্জা পায়। সেই সাথে সকল ছেলে-মেয়েদের পরিবারকে সচেতন হতে বলেন।

বগুড়ার পার্ক গুলোর তালিকায় রয়েছে বগুড়ার সুনামধন্য মমইন ইকো পার্ক, বগুড়া গ্রীন রিসোর্ট, ওয়ান্ডারলেন্ড, পৌর পার্কসহ আরও একাধিক পার্ক। বেশিরভাগ পার্কগুলোতেই চোখে পড়ে স্কুল, কলেজ ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা বয়সের ছেলে এবং মেয়ের শারীরিক সম্পর্কের চিত্র। এই পার্ক গুলোতে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করা নিষেধ। পার্কের বাগানে সিঙ্গেল কাউকে দেখলেই বাধা দেয় সেখানে দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ড। হাতে যদি মোবাইল ফোন অথবা ক্যামেরা থাকে সেটিও নেন কেড়ে।

খুব দ্রুত প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবারের লোকজনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন ইসলাম তুহিন। তিনি বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে শুনতে পায় এমন ঘটনা, মাঝে মধ্যে নিজের চোখেও দেখতে পাই, তবে খুব দ্রুতই এই পার্ক গুলোর মালিকদের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। না হলে তরুণ প্রজন্ম দিন দিন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। সেই সাথে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন এই নেতা। যেন প্রতিনিয়ত পার্ক গুলোকে নজরদারিতে রাখে।

নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করা পার্কের ব্রেঞ্চগুলোতে প্রেমালাপের নামে চলে অসামাজিক কর্মকান্ড। অনেকেই ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়েও দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন এসব আপত্তিকর আচরণ। আবার অনেকে ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ছেন। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখার দাবী সাধারন মানুষের। তাই প্রশাসনের কাছে এসব পার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি অভিভাবকদের।

এবিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ , আমরা দ্রুতই পার্ক গুলোর মালিকদের ডেকে কথা বলবো যাতে পার্কের ভেতরে এরকম অনৈতিক কোন কার্যকলাপ না স্কুল ড্রেস পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের নজরদারিতে রাখতে হবে যেন তারা স্কুল চলাকালীন সময়ে পার্কে না যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমরা পার্ক গুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখবো যাতে কোনরকম অসামাজিক কার্যকলাপ না হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বলছেন, ইতিমধ্যেই পার্ক কর্তৃপক্ষকে নোটিশ করাসহ পার্ক গুলোর পাশাপাশি স্কুল কলেজের শিক্ষদেরকেও নোটিশ করেছেন। অনৈতিক কর্মকান্ড রুখতে জেলার পার্কগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি সচেতন নাগরিকদের।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ