২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ছেলের কবরের পাশে বসে থাকেন মা

spot_img

প্রতিটি মায়ের কাছে একমাত্র ছেলে যক্ষ্মের ধনের মতো। সেই বুকের মানিক হারিয়ে আম্বিয়া বেগমের এখন দুনিয়া আঁধার। ছেলে সাগরের স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তিনি। দিনভর ক্ষণে ক্ষণে শুধু কাঁদেন।

রাতে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ছেলের ছবি নিয়ে ছুটে যান তাঁর কবরের কাছে। এভাবে প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন। এ বছর দুই ঈদে মায়ের প্রায় পুরোটা সময় কেটেছে ছেলের কবরের পাশে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঝরে যাওয়া এক তরতাজা প্রাণ শহীদ সাগর হাওলাদার (১৭)। তিনি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের নুরুল হক হাওলাদারের ছেলে।

ছেলের কবরের পাশে বসে থাকেন মাগত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সাগর। ১৯ জুলাই ঢাকার আবাহনী মাঠের কোণে পুলিশ বক্সের কাছে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি মারাত্মক আহত হন।

তাঁর দুই পায়েই গুলি লাগে। উপস্থিত লোকজন চিকিৎসার জন্য সাগরকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুলাই তিনি শহীদ হন। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। খুব অল্প বয়সে সংসারের বোঝা কাঁধে নেন শহীদ সাগর।

সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েক মাস আগে তিনি ঢাকায় যান। লক্ষ্য ছিল অভাবের সংসারে সহায়তা আর বোনের পড়াশোনার খরচ চালানো। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে লেকের ধারে একটি চায়ের দোকানে কাজ নেন। স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে বিদেশে গিয়ে দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাবেন। কিন্তু ঘাতক বুলেট তা হতে দিল না।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা নুরুল হক এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সংকটে তা হচ্ছে না। শহীদ সাগরের বাড়িতে এখন কান্না ছাড়া যেন আর কিছুই নেই। বৃদ্ধ দাদা আব্দুল মজিদ হাওলাদারও (৭৫) উঠানে বসে সারাক্ষণ নীরবে কাঁদেন।

সাগরের একমাত্র ছোট বোন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খানম এখন অনেকটাই নির্বাক। সারাক্ষণ চুপচাপ বসে কী যেন ভাবে! কেউ ডাকলেও সাড়া দেয় না। হয়তো ভাইয়ের স্মৃতি আওড়ে নীরব দহনে পোড়ে।

শহীদ সাগরের চাচা মইনুল হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালের মে মাসে সাগর ঢাকায় গিয়েছিল। ওর স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে অনেক টাকা আয় করে বাড়িতে পাকা দালান তুলবে। ওই দালানে সবার জন্য আলাদা রুম থাকবে। এ ছাড়া বোনের পড়াশোনার খরচ চালাবে। মায়ের জন্য কাজের লোক রেখে দেবে। সাগরের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না! যারা আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই!’

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ