
বগুড়ার দুটি কলেজে শিক্ষক আছেন ৩২ জন, কিন্তু শিক্ষার্থী মাত্র ১২ জন। আরও অবাক করা বিষয়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া এসব শিক্ষার্থীদের কেউই পাস করতে পারেনি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজে এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে দেখা যায়, কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ কলেজটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। অন্যদিকে কাহালু উপজেলার আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে মানবিক বিভাগের ৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক আছেন ১৪ জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজ দুটি প্রায় নামমাত্র অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে। কোনো ভবন ভেঙে গেছে, আবার কিছু ভবন তালাবদ্ধ অবস্থায়। নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের দেখা মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন দেখিয়ে নামমাত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় গুণগত শিক্ষা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ টিএম ফেরদৌস আলম জানান, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না আসায় পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
আর প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি তারেক আমরিল্লাহ বলেন, ‘কলেজে টিকে থাকার জন্য প্রশাসনের সহায়তা জরুরি।’
এদিকে, ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বগুড়ার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ।
২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং ২০১৫ সালে চালু হওয়া কাহালুর আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুই প্রতিষ্ঠানই এখন টিকে আছে কেবল কাগজে-কলমে।




