
এস এ সবুজ:
বগুড়া–৭ (শাজাহানপুর–গাবতলি) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থীতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র তোলার ছয় দিন পর একই আসন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্র উত্তোলন করাকে ঘিরে এই গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গাবতলি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন মোরশেদ মিল্টন। এর আগে একই আসনে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দলীয় নেতারা মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি বগুড়া–৭ আসনে নির্বাচন করছেন না বেগম খালেদা জিয়া?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও শাজাহানপুর নির্বাচনী প্রধান এনামুল হক শাহীন সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বহাল রয়েছে। আমরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেব। গাবতলি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন আমাকে জানিয়েছেন, গুলশান কার্যালয় থেকে তাকেও মনোনয়নপত্র তুলে রাখতে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাইনি।
বগুড়া-৭ আসনটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য ও বিএনপির অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বরাবরের মতো এবারও এই আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে একই আসনে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মোর্শেদ মিল্টনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
দলীয় সূত্র জানাগেছে, আইনি জটিলতা বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে মূল প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হলে যেন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকে, সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই সম্ভবত এই ‘বিকল্প’ মনোনয়ন।
এদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম রব্বানীও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই দুই দলের এমন অবস্থান বগুড়ার রাজনীতিতে নতুন মেরূকরণ ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।




