
সাধিকা রহমান:
বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এখনো স্বক্রিয় রয়েছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের একদল সন্ত্রাসী। এলাকায় সুদের কারবার, বিল দখল, মারপিট, চাঁদাবাজি সহ একাধিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলাও হয়েছে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। তবে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই সন্ত্রাসীরা। সামনে মাটি বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে এখন থেকেই আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই গ্রুপ।
২০২৪সালের ৫আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রুপটি বিএনপি পন্থী এক নেতার ছত্র ছায়ায় চলে আসে। কৌশলে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের দলীয় পদে আসার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয় গ্রুপটির একাধিক সন্ত্রাসী।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের দাদন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, রাকিব সহ স্থানীয় প্রায় ৩০জন সন্ত্রাসী গ্রুপটির মধ্যে রয়েছেন। গ্রুপটির বেশির ভাগই কিশোর অপরাধী।
মাদলা এলাকায় সিমেন্টর খুঁটি ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বাবুকে গত ২৪অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও মারপিট করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলমগীর ও রাকিব গ্রুপ। বাবুর পত্তন নেয়া একটি বিল দখল করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন এই সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় থানায় আলমগীর, রাকিব সহ ৯জনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার করেছেন বাবুর স্ত্রী জনি খাতুন। মামলার পর পরই আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন আলমগীর সহ বেশির ভাগ আসামি।
সরেজমিনে জানাযায়, আলমগীর হোসেন এবং রাকিব মূলত শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দীর্ঘ বছর ধরে চড়া সুদে দাদন ব্যবসা করে আসছে আলমগীর হোসেন। আলমগীরের কাছ থেকে সুদের টাকা নিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা অনেক।
জানতে চাইলে এমদাদুল হক বাবু সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, ৬বিঘার একটি বিল পত্তন নিয়েছিলাম। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন, রাকিব সহ তাঁদের সন্ত্রাসী সহযোগীরা চাঁদার দাবিতে আমার মাথায় কুপিয়ে আহত করে। আমার বিল দখল করে সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছে। আমি নিরাপত্তা হীনতায় দিন পার করছি। এরা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসী হলেও বর্তমানে বিএনপি পন্থী কয়েক নেতার ছত্র ছায়ায় আধিপত্ব বিস্তার করছে। আমি এবং আমার পরিবার এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতংকে দিন পার করছি।
আলমগীর হোসেন এবং রাকিবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে মাদলা ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, আলমগীর হোসেন এবং রাকিব আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বলেই সবাই চেনে। ৫আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর এরা বিএনপির কয়েক নেতার সাথে মিশতে শুরু করে। এরমধ্যে রাকিব আমাদের দলের একটি কমিটিতে পদ নিতে খুব চেষ্টা করেছে। আমারা তা হতে দেই নাই। আমরা বলেছি তোমরা যার সাথে খুশি দল করো কিন্তু আমাদের দলীয় অফিসে আসবে না।
তাঁরা আরো বলেন, আর কয়েক দিন পর থেকেই ইট ভাটা গুলোতে মাটি লাগবে। কোটি টাকার মাটি বানিজ্য হবে। মূলত মাটি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন এবং রাকিব মরিয়া হয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।
উপজেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, আর কয়দিন পরেই সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন সবার ভোটই আমাদের লাগবে। আলমগীর এবং রাকিব এর গ্রুপটি আমাদের দলের কারো সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানা নাই। স্থানীয় বিএনপির কেউ তাঁদের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়ালে সাথে সাথে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।





