
বগুড়া শাজাহানপুরে রাতের আঁধারে একের পর এক সেচের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
তিন মাসের ব্যবধানে একই কৃষকের সেচযন্ত্রের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বারবার চুরির শিকার হলেও এখনো কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সর্বশেষ গত রাতে উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের কচুয়াহদ গ্রামে মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে আব্দুল বাসেদ মণ্ডলের সেচযন্ত্রের ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর আগে প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে একই কৃষকের দুটি সেচ মেশিনের দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের সন্ধান মেলেনি বলে জানান তিনি।
পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন ট্রান্সফরমার কিনে সেচ কার্যক্রম চালু করেন বাসেদ মণ্ডল। কিন্তু ফের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হয়রানি করতেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদবাড়িয়া গ্রামে সাংবাদিক মিজানুর রহমানের পুকুর ও ফসলি জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাম্পের ট্রান্সফরমারও সম্প্রতি চুরি হয়েছে। ওই ঘটনারও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকরা জানান, একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় ফসলের জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। চোরের হাত থেকে ট্রান্সফরমার রক্ষা করতে অনেক কৃষককে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল গনমাধ্যমকে বলেন, চোরচক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




