
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ রনি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ‘সিমেন্স এনার্জি’ নামের একটি অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যবসার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। অ্যাপসটি বন্ধ হওয়ার পর প্রতারণার শিকার কয়েকজন যুবক প্রতারক চক্রের মূলহোতা ইদ্রিস আলী (৫০) ও অন্যতম সদস্য আতিকুজ্জামান চঞ্চলকে (৩৮) আটকে রাখেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পৌরসভার লক্ষীপুর খাঁ পাড়ায় এঘটনা ঘটে।
প্রতারক ইদ্রিস আলী যশোর জেলার নওয়াপাড়া উপজেলার বৌ-বাজার এলাকার মৃত জোনাব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর জীবননগর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। সহযোগী আতিকুজ্জামান চঞ্চল লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, ইদ্রিস আলী ও আতিকুজ্জামান চঞ্চলকে প্রতারণার অভিযোগে লক্ষীপুর খাঁ পাড়ায় একটি আম বাগানে কয়েক যুবক আটকে রাখে। আটকের পর তাদের হেনস্তা করলে যুবকদের কাছ থেকে প্রতারণার টাকার মধ্যে তিন লক্ষ টাকা দিতে রাজি হন তারা। এরমধ্যে দুই লক্ষ টাকা ইদ্রিস আলী ও এক লক্ষ টাকা চঞ্চল দিবেন। পরে ইদ্রিসকে উৎসুক জনতার নিকট রেখে চঞ্চল টাকা নিতে বাড়ি আসেন। এরপর স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইদ্রিসকে ঘটনাস্থল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী সবুজ অভিযোগ করে বলেন, ইদ্রিস আলী আমাকে যখন একটি অ্যাপর দিয়ে জানান এখানে যা টাকা রাখা হবে সেই টাকা জমা থাকবে এবং জমাকৃত টাকা থেকে প্রতিদিন একটি কমিশন পাওয়া যাবে। আমি তার কথা মত ১৫ হাজার টাকা বিকাশ করি। সে আমাকে তার পরের দিন এক হাজার টাকা ব্যাক দেয়। এভাবে ২-৩ দিন টাকা দেয়ার পর তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায় না, আবার কমিশনের টাকাও আর দেয় না। পরে জানতে পারি এটা একটি প্রতারক চক্র, তারা এই ভাবে এলাকার বেশ কিছু তরুনসহ সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারক চক্রটি প্রতারনা করছে।
একই অভিযোগ করেন হাফিজুর রহমান নামের আরেক যুবক। তিনি বলেন, একজন হুজুর মানুষ প্রতারনা করবে, এটা ভাবতে পারিনি। তাকে বিশ্বাস করে আমি এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার সব টাকা মেরে দিয়েছে। অনেক দিন পর তাকে খুঁজে পেলাম। তার কাছে কিছুই চাইনা শুধু আমাদের দেওয়া টাকাগুলো ফেরত চাই এবং এই প্রতারণার সাথে জড়িত সকলের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জীবননগর বাজারে একটি প্রতারক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন লেবাসধারী ইদ্রিস আলী। তারা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের ফতোয়া দিয়ে তারা সহজ সরল মানুষের সাথে বিভিন্ন ভাবে প্রতারণা করেন। ইতোমধ্যেই প্রতারক চক্রটি সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের তথ্যানুযায়ী ১২০ জন গ্রাহকের নিকট থেকে তারা টাকা নিয়েছেন।
জনতার হাতে আটকের পর ইদ্রিস আলী বলেন, আমরা যে অ্যাপস দিয়ে কাজ করি তার সাইটটি গত শুক্রবার থেকে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে ১২০ জন গ্রাহক আছে। তবে এই কাজের সাথে আমি একা জড়িত নয়। আমার সাথে লক্ষ্মীপুরের চঞ্চল ডাক্তার ওরফে চয়ন, শাহাবুল মাস্টার, বাবুসহ আরো কয়েকজন জড়িত আছে। প্রতারণা করে আমি টাকা নিয়ে ভুল করেছি। আমি সব টাকা ফেরত দেবো। অভিযুক্ত আতিকুজ্জামান চঞ্চলের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারের একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জামাল হোসেন খোকন বলেন, লক্ষীপুর গ্রামে প্রতারককে সাধারন জনগন আটক করেছে এটা আমি শুনেছি। এর বাইরে কিছু জানা নেই। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




