
আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল.এ শাখার তালবাহানায় ভিখারী প্রতিবন্ধী একটি অসহায় পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার প্রতিবন্ধী ভিখারী মৃত: আজিজুল হকের ওয়ারিশগণ তাদের পিতার ক্রয় কৃত সম্পত্তির জমি অধিকরনের অর্থ হতে বঞ্চিত। মৃত আজিজুল হকের পুত্র জাহাঙ্গীর এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার পিতা বিগত ০৬/০৬/১৯৮৮ইং তারিখে ৩২৯৬ নং রেজিষ্ট্রিকৃত কবলা দলিল মূল্যে মোহাম্মদ আলী পিতা মৃত: আজিম উদ্দিনের কাছ থেকে ৩০ শতক জমি খরিদ করে তারপর নিজ নামে খাজনা খারিজ করে। ভোগ দখল করিয়া থাকা অবস্থায় আর.এস রেকর্ড যথারীতি আমার পিতা আজিজুল হকের নামের প্রচারিত হয়। তারপর আমার পিতা আজিজুল হক ৩০ শতক থেকে ২৪ শতক জমি নিজের প্রায়োজনে বিক্রি করে। পরিশেষে ৬ শতাংশ জমির মালিক হয়। পরবর্তীতে ১ শতক জমি রাস্তায় চলে যায়। অবশিষ্ট ৫ শতক জমি আমার পিতা আজিজুল হকের নামে বহল থাকে। আমার পিতা মৃত্য বরণ করিলে। আমরা ২ ভাই ও আমার মা পত্রিক সূত্রে মালিকআনা হইয়া বসবাস করিয়া ভোগ দখল করিয়া আসতে থাকি।
এমতাবস্থায় জনস্বার্থ মূলক উদ্দেশ্যে জাতীয় মহাসড়কে উন্নতিশীলকরণ শীর্ষক প্রকল্পের প্রায়োজনে আমাদের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনে ২০১৭ (২০১৭ সনের ২১ নম্বর আইন) এর চার ধারার অধিনে ৪(১) নং উপ-ধারায় দ্রষ্ট এল.এ কেস নম্বর ০৭/২০২১-২০০২ মোতাবেক ভূমি অধিগ্রহণ হওয়ায় আমার নিম্ন তফসিল বর্ণিত জমির বৈধ্য মালিক হওয়ায় আমাদের সকলের নামে চার ধারা নোটিশ ও ফিল্ড বুকে নাম অন্তভুক্ত করে নাই।
এই বিষয় নিয়ে এল.এ শাখার কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় সাক্ষাত করিলে তারা আমাদেরকে কোন পাত্তা দেয় না । অথচ রাস্তার নকশা অনুপাতে আমাদের জমি অধিকরনের আওতায় পরেছে। আমাদের চারপাশের অনেক জমি ওয়ালা তাদেরকে অধিগ্রহনের টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের প্রাপ্ত জমির প্রাপ্ত টাকা হতে বঞ্চিত এল.এ শাখায় জানতে গেলে নানা তালবাহানা ধমক দিয়ে অফিস হতে বাহির করে দেয়। এবং জমি অধিগ্রহনের আইন অনুযায়ী আমাদের কোন নোটিশও দেয় নাই। এবং আমরা পাই বা নাই এর কারণ কি আমরা এল.এ শাখায় গেলে জানতে পারি না। জমি যে সময় রাস্তার জন্য মাপযোগ করা হয় সেই সময়ের ব্যাক্তিদের মধ্যে শুধু মিনু নামের যে পাবলিক আমিন ছিল শুধু তাকেই চিনি রাস্তার কাজ শুরু হলে আমাদেরকে উচ্ছেদ করবে আমি আমার প্রতিবন্ধী ভাই ও আমার মা কে নিয়ে কোথায় স্থান নিব এর কোন থাই নেই। এই নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। আইনের কাছে আমার একটাই দাবি আমাদের প্রাপ্ত জমির অধিগ্রহনের প্রাপ্ত টাকা আমাদেরকে দেওয়া হোক এই নিয়ে আমি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম এল.এ শাখার আইনি প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। কেন ভিখারী প্রতিবন্ধী পরিবারটি তাদের প্রাপ্ত অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বিষয়টি বর্তমান সরকারের আইনের সঠিক নজরদারি করা উচিৎ।




