
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও চোলাইমদসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও থানা পুলিশ। পৃথক এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার হলেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতারা আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া ডিএনসি’র ‘খ’ সার্কেলের একটি দল নন্দীগ্রাম উপজেলার ২নং সদর ইউনিয়নের ডুবাতেঘর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় তাজউদ্দিন শেখ উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী মোছা. জয়নব খাতুন (৩৪)-এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শয়নকক্ষের খাটের তোষকের নিচে রাখা একটি প্লাস্টিক বক্স থেকে ৫৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরদারিতে থাকা জয়নব খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই দিনে ডিএনসি’র ‘খ’ সার্কেলের আরেকটি অভিযানে ১ লিটার চোলাইমদসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ওমরপুর গুন্দইল পশ্চিমপাড়ার রফিক প্রামাণিকের ছেলে মোঃ বাবলু প্রামাণিক (৩৩) এবং কদমা পূর্বপাড়ার মৃত নাজির হোসেনের ছেলে সাহাফুকার রহমান (৪০)। এসময় নন্দীগ্রাম উপজেলার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই তাদের প্রত্যেককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ধুন্দার বাজার এলাকা থেকে সাব্বির আহম্মেদ (৩২) নামের এক যুবককে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ধুন্দার গ্রামের মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ডিএনসি ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এসব অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে নন্দীগ্রাম উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে আরও জোরদার ও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।প্রশ্ন এখন একটাই—ছোট কারবারি ধরা পড়লেও, কবে ধরা পড়বে মূল হোতারা?




